গাখির মা

স্নীল পঙ্গোপীধ্যার

ন্‌

সাহিত্য সংস্থা ১৪/এ, টেমার লেন, কলিকাতা-৯

প্রকাশক 2

রণধীর পাল

১৪/এ, টেমার লেন কলিনকাত1-৭০০ ০০৯

'প্রথম প্রকাশও ১৯৬৪

মুদ্রাকর

তাবকনাথ হাজরা।

দি করুণাময়ী প্প্রিন্টিং ওয়ার্কস্‌ ৩৬/১, বাধামাধব সাহা লেন কলিকাতা-৭০০ ০০৭

বোধ রায়

" আ্রীতিভাজনেঘু

এই €লখকের অন্যান্য বই

পপল্দশী

আমার ভ্রমণ মত্যধামে শীললোহিভের চোখের সামাল ক্বামার ্রেমের করিবতা

সেই সময

মহুব্ পাহাড

পুর পাশ্চিম* ইত্যাছি

নারী

সুজাতার জেই হেঁটে যাওয়ার ভঙ্গিটা আজও আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। সেদিন সারা ছুপুর প্রবল বৃষ্টি হয়েছিল, আমি ভেবেছিলুম, সন্ধের আগে থামবে না, বাড়ি ফেরার ব্যাপারে খুব সমস্তা হবে। কিন্ত বিকেল চারটের মধ্যেই হঠাৎ সেই বৃষ্টি যেন উড়ে চলে গেল অন্য দেশে, দিব্যি 'ঝকিমিকি রোদ উঠে গেল। জঞ্রানল। দিয়ে দেখলুমঃ কলেজ স্টিটে এক হাঁটু জল জমে গেছে

রোদ্দ,রের একট শিখা এসে পড়েছে সুজাতার মুখে আমি তাকে পলশুম, তোমার চেয়ারটা একটু এদিকে সরিয়ে আনে?

চেয়ার না সরিয়ে সুজাতা উঠে দাড়ালে।। তারপর ব্যাগট। তুলে নিয়ে বললোঃ আমি এবার বাড়ি যাবো

আমি রীতিমতন অবাক হয়ে বললুম, এখন বাড়ি যাবে কী করে? বসো, আমি তোমায় পৌছে দেবো

স্থজাত। মু গলায় বললো, না, আমি একাই যেতে পারবে !

কোনো মানুষ যদি হঠাৎ কখনো! তার স্বভাবের সম্পূর্ণ উল্টে ধরনের ব্যবহার করে, তা হলে তাকে বলার মতন কোনে। কথা চট করে খুভে পাওয়া ঘায় না।

সুজাতার পরিচ্ছন্নতার বাতিক একদিন তার চটিতে কুকুরের আ। লেগে গিরেছিল বলে সে চটিটাই ফেলে দিয়েছিল, সেই চটি আবার ধুয়ে ব্যবহার করার কথা যেন সে চিস্তাই করতে পারে না। সে রকম নোংরা অল কাদার মধ্য দিয়ে হাটবে? গত বছর এই রকম একটি দিনে সে প্লাত সাড়ে আটটা পথস্ত অপেক্ষা করেছিল, জল কমে যাবার জন্য

তাছাড়। হঠ1ং তার কী হলো, সে এক চলে চলে যেতে চাইছে কেন?

অঃ নগরী---১

স্বভ্াত। নামতে লাগলে! কফি হাউসের সিড়ি দিয়ে। আমি তার পেছন পেছন এসে বললুম, এই, তোমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল নাকি?

সুজাত! কোনে! উত্তর দিল ন1।

জলের মধ্যে অবলীলাক্রমে পা দিয়ে সে এগিয়ে গেল ট্রাম লাইনের দিকে আমি তখনও কিছুই বুঝতে পারছি না সুজাতার সঙ্গে আমার রাগারাগি হয়নি একটাও কথা কাটাকাটি পধন্ত হয়নি শুধু শেষ পাচ মানট আমর ছু-জনেই চুপ করে ছিলুম এমন তো। প্রায়ই হয়, কথা! (থমে যায়, কিন্ত চিন্তার তবঙ্গ পরস্পরকে ছোয়।

আমি স্বজাতার হাত ধরে বললুমঃ কী পাগলামি করছে! ? তুমি এখানে দাডাও, আমি একটা! ট্যাক্সি ডেকে আনছি !

স্বজাতা। হাঁতট! ছাড়িয়ে নিল, শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় বললে, আমি একলা যাবো, তুমি আমার সঙ্গে এসো না!

স্থজাতার রাগ আমি চিনি অভিমানও চিনি আমি আবার সুজাতার প্রীত ধবতে যেতেই সে মুখ ফিরিয়ে আমার দিকে স্থিব ভাবে তাকালো সেই মুখ আমাব সম্পূর্ণ অচেনা এই মুজাত আমার সঙ্গে যাবে না। আমার সঙ্গে সে কথা কাটাকাটিও করবে না, সেস্থির সিদ্ধাস্ত নিয়ে ফেলেছে

ট্রাম বন্ধ হয়ে গেছে ব্রাস্তার ঠিক মাঝখান দিয়ে হাটতে লাগলো সুজাতা একট! ঠাপাফুল রঙের শাড়ি পরা, মাথার খোৌপাট। একটু- খানি ভেঙে গেছে কাপড় বাঁচাবার একটুও চেষ্টা করছে না সে। পাশ দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে জল ছিটিয়ে, সেদিকেও তার একটুও জক্ষেপ নেই অ্ুঞ্জাতার সেই কথার মধ্যে একটা তীত্র আঘাত ছিল। কোনোদিন সে আমার সঙ্গে সুরে কথা বলেনি তা ছাড়া কেনই বা সে হঠাৎ এমনভাবে আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে? আমি কী তুল বলেছি, কী দোষ করেছি ?

আমি চুপ করে দাড়িয়ে রইলুম |

বৃষ্টি থামার পর অনেক লোকই একসঙ্গে রাস্তায় নেমে এসেছে চতুর্দিকে নানা রকম গাড়ির হর্ন। কিন্তু আমি যেন আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। আমার মনে হচ্ছেঃ সমস্ত রাস্তাট। শুন্য সেখানে শুধু রয়েছে একমাত্র স্থজাতা। কোনোদিন সে রাস্তার জল কাদায় নামেনি, আজ সে হাটু পর্ষস্ত শাড়ি ভিজিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সে একবারও তাকাচ্ছে না পেছন ফিরে যেন আমার আর কোনো অস্তিত্বই নেই তার কাছে।

মোড়ের মাথায় পৌছোবার আগেই একট] সাদা রঙের গাড়ি থামলে। তার পাশে দরজ্রাট? খুলে গেল, কে মেন ডাকলে! তাকে সামান্য 'একটু দ্বিধা করে সুজাতা উঠে পড়লো সেই গাড়িতে, এবারেও সে তাকালো ন! আমার দিকে আমাব মনে হলো, গাড়িটা যেন নুঙ্জাতাকে গ্রাস করে নিরুদ্দেশে নিয়ে চলে গেল!

স্জ্রাতাকে আমি অল্প বয়েসে দেখেছি কিন্তু তাকে আমি অল্প বয়েস থেকে চিনি না। তখন আমার বয়েস চোদ্দ কি পনেরো হবে, বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে গিয়েছিলুম আগ্রায়। টগ্ডলা জংশনে আমার মেজমাঁম। স্টেশন মাস্টার ছিলেন, তিনি আমাদের নেমন্তুপ করেছিলেন

তখন আমার সগ্ঠ গল। ভাঙছে, হাফ প্যান্ট পরলে প। গছুটো বড্ড লম্বা লম্ব! মনে হয়। গালে সব সময় ছুটে। তিনটে ব্রণ থাকে বলে লঙ্জা-লজ্জা করে সেই বয়েসেই বাবা-মায়েদের সঙ্গে বেড়াতে যেতে আমার খারাপ লাগতে শুরু করেছিল। মুখখান! সব সময় গৌক্জ হয়ে থাকতো |

তাক্রমহল দেখতে গিয়ে একগাদ। বাঙালীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল অকটোবর-নভেম্বরে বাগ্তালীরা দলে দলে ভারত অভিযানে বেরিয়ে পড়ে। তাজমহুল দেখেনি রকম মধ্যবিত্ত বাঙালী বিরল. এবং

অনেক বাঙালীই সেখানে গিয়ে গদগদভাবে, 'একথ। জানিতে তৃমি ভারত ঈশ্বর শাজাহান--" আবৃত্তি করতে শুরু করে আমরা একবার দিনের বেল! তাজমহল দেখতে যাই, একবার রাত্তিরে রকমই নিয়ম প্রত্যেকবারই নাকি তাজমহলকে নতুন মনে হয়। আমার অবশ্য তাজমহল দেখে এমন কিছু আহামরি লাগে নি, সেই বয়েসটাই বোধহয় এসব দেখে মুগ্ধ হবার কথাও নয়

অন্য বাঙালীদের মধ্যে আমার মায়ের এক বান্ধবীকে হঠাৎ আবিষ্কার কর। গেল। সেই ভদ্রমহিল। আবার তাদের পাড়ার ভিন- চারটি পরিবারের সঙ্গে একটা দল মিলে এসেছেন। বিরাট এক দঙ্গল সেই দঙ্গলের মধ ছিল সুজাতা তার তখন ঠিক বারে বছর বয়েস! সেই বয়েসের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে বাঝ;-মায়েরা আলাপ করিয়ে দেয় না, তারা নিজেরাই ভাব করে নেয়

ন্বজাতার সঙ্গে আমি ছু'একটা কথা বলেছিলাম বোধহয় অ'মার ঠিক মনে নেই তখনও মেয়েদের সম্পর্কে আমার তেমন কোনো আগ্রহ জাগেনি। পুর্ন বয়স্কা মহিলা, বিশেষত যাদের স্বাস্থ্য ভালো, যাদের বল। যায় সম্পূর্ণ নারী, তাদের শরীর মুখের লাবণ্যের দিকে ভীরু ভীরু চোখে তাকাতে ইচ্ছে করতে। বটে, কিন্ত নিজের চেয়ে কম বয়েসী মেয়েদের সম্পকে একট। অবজ্ঞার ভাবই ছিল

.স রাতটা ছিল পৃণিমার রাত প্রায় সবাই সঙ্গে করে নান! রকম খাবার নিয়ে গিয়েছিল। তাজমহল দেখার নামে আসলে সামনের বাগ'নে চাদের আলোয় পিকনিক

সব পরিবারের খাবার-দাবারগুলে মিশিয়ে নানা রকম খাওয়া- দাওয়া হচ্ছিল, হঠাৎ একটা রব উঠলো, একটি মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকক্ষণ ধরে সেই মেয়েটিকে কেউ দেখেনি

সেট মেয়েটিই সুজাত]

পুরুষর। সবাই খুঁজতে গেল। তাতে আমারও উৎসাহ ছিল, তাতে নিজেকেও পুরুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, ত1 ছাড়। যেন চোর চোর খেলার মজা

শেষ পর্যন্ত নুজাতাকে খুক্রে পাওয়ার কৃতিত্ব কিন্তু আমার নয়। হয়তো! তেমন মন দিয়ে খুদ্ষিনি, কারণ মেয়েটিকে তো৷ আমি চিনতামই না ভালো করে। তবে ছুটোছুটি করেছিলাম বেশ কিছুক্ষণ

মেয়েদের স্মৃতিশক্তি কি বেশি? নুজাত1 কিন্তু ঠিক মনে রেখেছিল সেদিন সেই বাঙালীদের দলটায় নান৷ বয়েসের ছেলে পুরুষ ছিল, তাদের মধ্য থেকে বেছে বেছে শুধু আমাকেই কি মনে রেখেছিল সুজাতা ? না, সকলকেই তার মনে আছে ! আমি তো সেদিন কোনো বিশেষ ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিই নি!

এর বেশ কয়েক বছর পর» স্বজাতার সঙ্গে একদিন গঙ্গার ধার দিয়ে হাটতে হাটতে, আকাশে একটা কমলাদলবু রঙের চাদ দেখে স্বজ্ভাতা পলেছিল, ভোমার সঙ্গে আমার প্রথম দেখ! হয়েছিল তাজমহলের সামনে

আমাকে অবাক চোখে তাকাতে দেখে স্বজাতা আবার বলেছিল, হাফপ্যান্ট-পরা বয়েসে তুমি একবার আগ্রায় যাওনি ? সেবারে আমরাও ছিলুম ওখানে

ন্বজাতা যতই মনে করাঁবার চেষ্টা করে, আমার কিছুতেই মনে পড়ে না। একটি মেমসাহেবকে প্রায় তার বাপের বষেসী একজন সাহেন একট] গম্বুজের আডালে দাড়িয়ে চুমু খাচ্ছিল, আমি দেখে ফেলেছিলুম, তাজমহল সম্পকে সেটাই আমার প্রধান স্পাতি। আর দ্বিতীয স্মৃতি সন্ধ্যায় আজানের মধুর সুর |

সুজাত বললো, একট মেয়ে সেবার হারিয়ে গিয়েছিল, তোমার তাও মনে নেই ?

হ্যা, সেই ঘটনাটা মনে আছে বটে, কিন্তু কিশোরী মেয়েটির মুখ তো! মনে করতে পারি না।

নুজ্াতা বললো, তুমি কেন আমাকে খুঁজতে যাওনি ?

তুমি কি সেই জন্ঠই হারিয়ে গিয়েছিলে নাকি ? আমি তোমায় খুজে বার করবো বলে ?

মোটেই না। তাজমহলের সামনে সবাই এত এত খাবার খাচ্ছিল, আর ঠেঁচিয়ে চেচিয়ে কথা বলছিল, সেটা আমার মোটেই ভালো লাগছিল না। তাই আমি ছুটে চলে গিয়েছিলুম, তাজমহলের পেছন দিকে? নদী খুঁজতে

পেয়েছিলে সেই নদী ?

হ্যা। জলের ধারে একা এক বসে থাকতে খুব ভালো লাগছিল। মনে মনে ভাবছিলুম, আমাকে যেন আর কেউ কখনো ডাকতে না আসে। আমি এখানেই থাকবো

আমার তুলনায় সেই বয়েসেই স্বজাতা অনেক বেশি পরিণত ছিল। আমি তাজমহলের দৃশ্য উপভোগ করিনি, নদীর কথা আমার মনেও পড়েনি আর স্জাতা একা এক গিয়ে বসেছিল যমুনার তীরে

কেন স্ুজীত রাস্তার জল ভেঙে একা এক! চলে গেল ?

তার ঠিক ছু-দিন আগেই আমার এম পরীক্ষা শেষ হয়েছিল | হাতে অফুরন্ত অবসর কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিক করেছিল উটি যাবে, টানাটানি করছিল আমাকে নিয়েও! কিন্তু স্বজাতা সেটা চায়নি। সে চেয়েছিল, আমার সঙ্গে পুরীতে যেতে

হ্যা, আর কেউ থাকবে না, শুধু আমার সঙ্গে সে পুরীতে যাবে, এক হোটেলে থাকবে এসব কথ সুজাত! নিঃসঙ্কোচভাবে বলে। সে বাড়ির অভিভাবকদের ভয় পায় না।

প্রথমে একটু চমকে উঠেছিলুম ঠিকই চাকরি-টাকরি পাবার আগে বিয়ে করার প্রশ্বই ওঠে না। আমাদের বাড়ির অবস্থা ভালো না, টানাটানির সংসার বিয়ের আগেই বাদ্ধবীকে নিয়ে সমুক্ডের ধারে একট! হোটেলে থাকা, ইংরিজি উপন্তাসেই এরকম হয় যদিও আমর! ইংরিজি উপন্যাসের জগতেই অনেকটা বাস করি, তবু মধ্যবিত্ত

_বাষ্তালী সংস্কার একেবারে যায় না, কোথাও একটু ভয় ভয় করে। যদি চেনাশুনেো৷ কারুর সঙ্গে দেখা হয়ে যায় ?

আমাকে একটু ইতস্তত করতে দেখে সুজাত খানিকটা বিদ্রপের স্বরে ভ্বিজ্ঞেম করলো, আমার সঙ্গে যেতে তুমি ভয় পাচ্ছে ? বন্ধুদের সঙ্গে যাওয়াটাই তোমার বেশি পছন্দ? ত। হলে আমিও তোমাদের সঙ্গে উটিতে যাবে !

আমি অমনি কৃত্রিম উৎসাহ দেখিয়ে, চোখে একটা হাসির ঝিলিক দিয়ে বললুম, পাগল ! বন্ধুদের সঙ্গে কে যাবে! শুধু তুমি আব আমি, পুরীর হো?টলে সারাদিন বিছানায় শুয়ে শুয়ে সমুদ্র দেখবো, আর.'-"* "দারুণ, দারুণ, কবে যাবে বলে। |

বন্ধুদের সঙ্গে উটি যাবার বদলে সুজাতার সঙ্গে পুরী ষেতে আমার . আপত্তি থাকবে কেন? আমি তো সুজাতার প্রস্তাবে সঙ্গে সঙ্গে রাজি শুধু টাকা-পয়সার চিন্তাটা মনের মধ্যে একটু খচখচ করছিল। আজেবাজে হোটেলে তো! থাকতে পারবে না সুজাত] আমার নিজস্ব কোনো। জমানো টাকা ছিল না, বাবা-মায়ের কাছে ছ্ু- তিনশো টাকার বেশি চাওয়া যায় ন। তবু হাআ্খারখানেক টাকা কোনে না কোনো উপায়ে যোগাড় হয়ে যেতই ! আমার অথ- চিন্ত| কি মুখে ফুটে উঠেছিল ?

সেকি ভেবেছিল, আসলে তাকে নিয়ে পুরীতে বেড়াতে যাবার সাহস আমার নেই ? আমার কিছুক্ষণ নীরবতার সে ভূল অর্থ করেছিল ?

এত সামান্া কারণে স্থজাতা রাগ করে চলে যাবে ? আমার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কঠিন গলায় বললো, তুমি আমার সঙ্গে এসো না !

॥৪॥

স্বজ্রাতাদের বাড়ি এলগিন রোডে কলকাতার অধিকাংশ বাঙালী বড়লোকদের মতন ওদের পরিবারেরও তখন পড়ন্ত দশ1।

ন্‌

অত বড় বাড়িটা অনেকদিন সারানে৷ হয়নি কিছুট? অংশ ভাড়াটে বসে গেছে। ওদের উঠোনটায় হয়েছে গাড়ি সারাবার গ্যারাজ মাড়োয়াড়ী গুজক্ররাতি ব্যবসায়ীরা বাড়িটা কিনে নেওয়ার জন্য ঘোরাঘুরি শুরু করে দিয়েছে

তবু স্তজজাতার বাবা-কাকাদের মুখে একটা অহংকারি ভাব। লোকের সঙ্গে কথা বলে ভুরু তুলে। সুজাতার বদ স্নেম। কোম্পানি খুলে প্রচুর টাকা খোয়ালো কিন্ত তা নিয়ে বিন্দুমাত্র হা-হুতাশ করেনি এমন ভাব দেখায় যেন ছু-র্পাচ লাখ টাকা কিছুই ন।।

স্রঙ্জাতার ছোড়দার নাম মন্তাদা, ক্রিকেট খেলা নিয়ে পাগল একবার রঞ্জি ট্রফিতে চান্স পেয়েছিল, ছু* ইনিংসে মোট রান এগারো তবু মুখে কি গবিত ভাব! আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় যেন আমি একট কানা-খোড়ী-পন্ধ কিংবা ধামন তার কারণ চামার জামা-কাপড়ের চাকচিকা ছিল না, আমার কোনো উচু বংশ পরিচয় ছিল নাঁ। আমি কথায় কথায় বলতে পারি না যে বার্ড কোম্পানীর ম্যানেজার আমার মাম! কিংবা অমুক নাম কর! ব্যারিষ্টার আমার মেসোমশাই ! স্রজাতার মতন মেয়ে যে আমাকে বাড়িতে ডাকে, সেট। ষেন তার দয়! !

কিছুদিন আগে নুজাতার ৮] মারা গেছেন, সুজাতা বলতো, এই পৃথিবীতে মাকে ছাড়া আর কারুকে সে কখনো গ্রাহ্য করেনি স্থজাতার বাব! রাজনীতিতে ঢুকে পডেছিলেন, মেয়ের প্রতি ননোযোগ দেশর তার সময় নেই নুজাতা একদিন ওদের কাঁড়িতে আমাকে খেতে নেমন্তুম্ন করেছিল আশ্চর্য ব্যাপার, ওদের বাড়ির আর কারুর সঙ্গে সেদিন একটা কথাও হলো না৷ আমার ।! আমি গিয়ে বসলুম তেতলায় সুঙ্ভাতাব নি্ঞন্য ঘরে, কিছুক্ষণ গল্প করার পব স্জযতা সেই ঘরেই খাবার নিয়ে এলো, আমাদের বাড়িতে এই রকমটা চিন্তাও করা যায় না। বন্ধু-বাদ্ধবদের খেতে বললে মা নিজে খাবার পরিবেশন করেন। সুজাতার মা বেঁচে নেই বলে আর কেউ বাড়িতে

জক্ষেপই করলো! না যে, তিনতলার ঘরে যুবতীটি কার সঙ্গে অত গল্প করছে।

অন্ত কেউ যদি বিরক্ত করতে না-ই আসে, তাহলে সুঞ্জাতাকে চুমু না খাওয়ারও কোনো মানে হয় পা! আমি মুজাতাকে একবার পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর মুখটা ফেরাতেই সুজাতা আমার ঠোঁটে একটা হাত চাপা দিয় বললো, এখনো সময় হয়নি

আমি হকচকিয়ে গিয়ে বলেছিলুম, তার মানে ?

সুঞ্জীতা পাতলাভাবে হেসে বলেছিল, তার মানে সময় হয়নি !

সুজাতার মতন মেয়েকে জোর করে চুমু খাওয়া যায় না।

শরীরের ব্যাপারে সুজাতার সে রকম কিছু শুচিবাই ছিল না। হঠাৎ হঠাৎ আমার মুখে হাত বুলিয়ে আদর করতে।। আমি কখনো ওকে জড়িয়ে ধরলে আপত্ডি জানাতো না। আমরা কোলাঘাট কিংবা ব্যারাকপুর গেছি ট্রেনে গায়ে গা ঠেকিয়ে বসে। কিন্তু চুমু পর্যন্ত পৌছোনো হয়নি

স্বজাতা আমার ঠোটে ভাত চাপা দিয়ে বলেছিল, এখনে। সময় আসে নি। তার মানে, সময় আসবে, তখন নিজেই জানাবে সেইজন্য কি আমার সঙ্গে পুরীতে যাণার কথা তুলেছিল ত'জনে হোটেলের এক বিছানায়-*.*-" |

আমি ছাড়াও স্রজাঙার আরও কয়েকজন ঘনিচ বন্ধু ছিল। অনন্থা, গৌতম, অনিবাণ। ওদের সঙ্গেও সাবলীলভাবে মিশতো স্ক্তাতা। প্রেসিডেন্সি কলেজের একজন বাংলার অপ্যাপক নাকি স্জাতার প্রেমে পাগল হয়ে টঠেছিল, সেই অধ্যাপকটিকে নিয়ে আবার হাসাহাসি করতুম আমর! সবাই ! সেই ভব্দরলোক স্ুজ্জাতাকে নিয়ে চার-পাঁচটা! কবিতাও লিখে ফেলেছিলেন তাঁর মধ্যে একট। কবিতা এখন আতৃত্তিকারদের মুখে মুখে ফেরে

স্ুক্জান্ধার আন্য বন্ধুদের সঙ্গে আমার তফাৎ ছিল এই যে. স্মজাতার সঙ্গে দেখা করার জন্া আমাকে কখনো বিশেষ উদ্যোগ নিতে হয়নি একদিন দেখা হলেই ঠিক হয়ে যেত, পরে আবার কখন কোথায় দেখা

হবে। একবার হঠাৎ খুব কাপুনি দিয়ে জ্বর আসায় আমি সুজাতার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি, রাত সাডে আটটায় সুজাতা আমার হস্টেলে চলে এসেছিল একদল ছেলের মাঝখানে ঠাড়িয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, অনীশ কোথায় ?

অনীশের কা হয়েছে ?

আমি ঠিক. জানভুম, সুজাতা আসবে

কিন্ত আমি আজও বুঝতে পারি না সেই বৃগ্ঠির দিনে সুজাতা কেশ অমনভাবে চলে গেল পরের বার কোথায় দেখ। হবে তা কিছুই বললো না

সুজাতার বাড়িতে গিয়ে এর পর আমারই কি খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল যে সুজাতা কেন রাগ করেছে? রাগের তো! কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ছদিন পরেই সুজাতার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল অবশ্য স্তুজাঁতার সঙ্গে আরও ছুটি মেয়ে ছিল। তাদেরও আমি চিনি। স্থজাতা আমাকে দেখে মুখ ছ্বুরিয়ে নেয়নি আগের দিনের ব্যবহারের কোনো কৈফিয়ৎ দেয়নি স্বাভাবিক হাসি মুখে বলেছিল) অনীশ, তোমার ছুটে! বই আছে আমার কাছে আর তোমার একটা কলম আমি একদিন ভুল করে নিয়ে গিয়েছিলুম দীপার হাত দিয়ে ফেরৎ দিয়ে দেবো, হলেই তুমি পেয়ে যাবে তো ?

সুজাতা আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে ছিল, যেন আমি অনীশ নয়, অনন্য, গৌতম, অনির্বাণ ফিংবা অন্ত যে-কেউ।

এরপর পোষা কুকুর ছাডা আর কারুর কি এঁ মেয়েকে অন্থুসরণ করা উচিত ?

সজাতার অদ্ভুত ব্যবহারে আমার অভিমান কিংবা দুঃখ হয়নি, সবাঙ্গ জলে 1গয়েছিল অসম্ভব রাগে যেসব রাগী ছেলেরা অহংকারী প্রেমিকার মুখে আযসিড বাল্ব ছুড়ে মারে, তাদের মনস্তত্ব যেন বুঝতে পারছ্িলুম অনেকটা কিন্তু আমি তে! অত নীচে নামতে পারি ন। ! আমি শুধু মনে মনে স্ুজাতাকে বলেছিলুম, বিদায় !

১০

তবু আমার. আশ' ছিল, সুঙ্কাত। ছু' চারদিনের মধ্যেই নিজের ভুল বুঝতে পারবে, নিজেই আমার কাছে আসবে কিংবা চিঠি লিখবে

পরে একদিন দেখা হলো, সুজাতা আর আমার সঙ্গে ভদ্রতা করেও কোনে; কথা বললো! না যেন সব কথা! শেষ হয়ে গেছে !

অনন্য, গৌতম, অনিবাণদের চেয়েও সুজাতা যে আমাকে কেন বেশি পছন্দ করতো, তার কারণট। বোঝাও শক্ত ওদের সঙ্গেই স্জতাতাদের পারিবারিক দিল বেশি তবুস্ব্জাত বেছে নিয়েছিল আমাকে, স্জাতার সারলা পবিত্রতার সংস্পর্শে আমি ধন্য হয়ে গিয়েছিলুম। আমি নিজেকে গুজীতার যোগ্য করে তুলতে চেষ্টা করছিলুম স্ত্রজাতার তুলনায় অন্য সব চেনা মেয়েদের মনে হতো " তুচ্ছ

যে-স্থজাত। প্রায়ই নিজে থেকে আমার হাতটা নিয়ে খেলা করতো, সেই স্বৃক্জাতা অকারণে আমার হাত জোর করে ছাড়িয়ে চলে গেল হঠাৎ ?

সেই বৃষ্টির দ্রিনে সুজাতার মুখোমুখি টেবিলে বসে আমি চুপ করে ছিলুম মিনিট পাচেক সেইটাই কি আমার দোষ হয়েছিল !

॥?

দুর্গাপুরে চাকরি পাবার দ্ব' বছর বাদে আমি বিয়ে করি পারমিতাকে

তারপর সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই আমাদের একটি ছেলে মেয়ে জল্মালো। ব্যস, আর দরকার নেই ছিমছাম), সুপরিকক্পলিত পরিবার। পারমিতণ একট? ছোট্ট অপারেশন করিয়ে নিল। সংসার চালাবার ব্যাপারে পারমিতার দক্ষতা অসাধারণ তার সবচেয়ে বড গুণ এই যে নিছক গৃহিণী সে নয় ছেলে-মেয়ে মানুষ করার নামে অনেক মেয়ে এমন ভাব দেখায় যেন বিরাট একটা স্বার্থত্যাগ করছে

১১

তাদের জীবনে আর কোনে। আনন্দ-উপভোগ থাকে না? শুধু সম্ভানই 'ধ্যান-জ্ঞান

পাঁরমিত। কিন্ত ছেলেমেয়েদের যে-টুকু-যত্ব করবার তা ঠিকই করে, তারপরেও সে প্রত্যেকটি গান-বাজনার আসরে যায়

পারমিতার সঙ্গীতের নেশা আধুনিক ফিলম বা সাহিত্যের সে মোটামুটি খবর রাখে

পারমিতার গানের গলাটাও বেশ সুরেলা

পারমিতার সঙ্গে আমার ভালোবাসার সম্পর্কে কোনে! খাদ ছিল না। যদিও আমার প্রায়ই মনে হতো বিয়ে না করে পারমিতা গানের জগতে লেগে থাকলে নাম করতে পারতো বিয়ে করে বাচ্চাঁকাচ্চা নিয়ে বাঙালী মেয়েরা আর ঠিক শিল্পী হতে পারে ন!। বড় নড় কয়েকঞন গায়কের নাম উচ্চারিত হলেই পারমিতা এমন উচ্ছাস দেখায়, যেন গায়কের। তার প্রেমিক পারমিতা একদিন বলেও ফেলেছিল, ৭স্তাদ মইভ্রদ্দিন খা চাইলে সব কিছু দিয়ে দিতে পারে আমি অবশ্য এই নিয়ে পারমিতার সঙ্গে মজা করি

স্বজাতাকে আমি মন (থকে একেবারে বিসজন দিয়েছি, কথা বললে মিথ্যে বল! হবে মনে পড়ে মাঝে মাঝে হঠাৎ হঠাৎ !

স্বজাতার খবর কিছু কিছু কানে আসে। |

কলেজ ছাড়ার পর শ্রজাতা বিলেতে চলে গেছে পডাশ্ান। করাতে উচ্চাকাতক্ষা ? এই জন্যই কি সুজাত আমার সঙ্গে সব সম্পর্ক কাটাকাটি করেছিল ? সে ভেবেছিল, আমি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে, আ'ম কোনোদিন সব দেশে যেতে পারবো ন1?

ইকোনমিকৃসে আমাক রেজাল্ট নেহাৎ খারাপ হয়নি বিলেত আমেরিকায় একটা কিছু স্কলারশীপ জোগাড় করা আমার পক্ষে খুব একটা শক্ত হতো না। আমার বন্ধুদের মধ্যে চার-পাচজন চলে গেছে, তার মধ্যে ছ-জ্রনের রেজাণ্ট আমার চেয়েও নীচে ছিল কিন্তু সুজাত। গেছে শুনেই বিলেত-আ্যামেরিকার ওপর আমার ঘেন্না ধরে গিয়েছিল

১২

অফিস থেকে আমাকে এর মধ্যে হু-বার লগ্তন ঘুরিয়ে এনেছে সুজাতা শেফিন্ডে থাকে জেনেও আমি তার কোনো খোজও করিনি

সম্টলেকের জমিটা আজ রেজ্িষ্ি হয়ে গেল। বাড়ির প্ল্যানও রেডি। সামনের মাসেই কাজ শুরু হয়ে যাবে পারমিতার ইচ্ছে অন্তত ছ'খানা ঘরওয়ালা দোতল। বাড়ি করা, আমি আপাতত একতলার বেশি চাই না। বেশি বড় বাড়ি করা ভালো দেখায় না। পেছনে ভিজিলেন্স লেগে যেতে পারে

ঠিকঠাক ট্যাক্স দিয়ে বাধা মাইনের চাকরিতে কোনে ভদ্দর- লোকের পক্ষে বাড়ি বানানো অসম্ভব অনেক লোক বিটায়ার কবার পর প্রভিডেন্ট ফাণ্ড, গ্রাচইটির সব টাক। দিয়ে একখানা বাড়ি বানায় এবং সেট! ভোগ করার আগেই ছু'চার বছরের মধ্যে টুক করে মর যায়। আমি ওসর বাজে বাপারে নেই যা কিছু ভোগ করার, তা যৌবন বয়েমেই চাই একটা সে্কেগড হ্যাগ্ড গান্ডি কিনেছি মাগেই মাসে এখন প্রায় দশ-বারো হাজার টাক] উপরি রোজগার হয়। নেহাত এখনে চক্ষুলজ্জ1 আছে তাই, নইলে পঞ্চাশ- ষাট হাজার টাক তে! কিছুই না। আমার হাত দিতে প্রায় এক কোটি টাকার বিল পাশ হয়, এর মাত্র এক পার্সেন্ট তো যে-কোনে। পার্টিই হেসে খেলে দিতে রাঙ্জি

চাকরি পাবার পর প্রথম চার বছর একটা আস্তো গাড়লের মতন একট পয়সাও নিষঈটনি কারুর কাছ থেকে তখনও একটা ফীাপ। আদর্শবাদ মাথা জুডে ছিল যে! মনে আছে, প্রথম যে লোকটি আমাঁকে ঘুষ দেবার সামান্য ইঙ্গিত করেছিল, তার ওপর এমন রেগে গিয়েছিলুম যে, টং টং করে বেল বাঞ্দিয়ে বেয়ারা ডেকে লোকটিকে বলেছিলুম আমার চেম্বারে থেকে দূর করে দিতে জেনারাল ম্যানেজারের কাছে গিয়ে নালিশ করেছিনুম, যেন ফার্মকে ব্ল্যাক

১৩

লিস্টেড করা হয়। জেনারাল ম্যানেজার আমার প্রশংসা! করেছিলেন, সহকর্মীরা আমার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল, তবু কোনো এক অলৌকিক উপায়ে সেই ফার্মটি ঠিকই অর্ডার পেয়ে গেল!

সে বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলে সহকর্মীর! ওর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে, কেউ কেউ কাধ ঝাকায় জেনারাল ম্যানেজার সেবারই আমাকে একটা ট্রেইনিং-এর স্বন্ত বিলেত পাঠালেন

আমারই সমান পোস্টের এক ভি পি ও, অর্থাৎ ডেগুটি পারচেজ অফিসার তার বাচ্চা মেয়ের জন্মদিনে সাড়ে চারশে। লোককে নেমন্তন্ন করে খাওয়ালো একটা ঘরে উপহারের পাহাড জমে গিয়েছিল সেদিন বাড়ি ফেরার পথে পারমিতা জিজ্ঞেস করেছিল) উৎপল ব্যানান্ি আর তোমার টেবিল সমান মাপের ?

আমাদের ছুই ছেলে মেয়ের জন্মদিনে কাছাকাছি কোয়াটারের ত” চারটি বাচ্চ! ছাডা আর কারুকেই নেমন্তন্ন করা হয় না। সাড়ে চারশো লোক খাওয়ানো মানে চোদ্দ-পনেরে। হাজার টাকার ধাকা। অবশ্য উৎপল ব্যানাজির মেয়ে সোনা-রূপোর গয়না উপহার পেয়েছে অনেক।

উৎপল বানাঁজির স্ত্রী ছবির গল। দিয়ে একবার রক্ত পড়তেই তাকে নিয়ে যাওয়। হলো। কলকাতায় এক নামকরা নাসিংহোমে

আমাদের ছুর্গীপুরে ভালো! হাসপাতাল আছে! কিন্তু উৎপল কোনো চান্সই নেয়নি! ছবির অবশ্য সাধারণ ব্রসঙ্কাইটিস হয়েছিল, সেই নাসিংহোমে পনেরো দিন থেকে, সব রকম চেকআপ করিয়ে সে সুস্থ হয়ে ফিয়ে এসেছে ওদের বাড়িতে কিছুদিন পরেই আবার একটা বড় পাটি হলো

পারমিতার সহজ্বে কোনো অসুখ বিস্থথ হয় না। ভালো' স্বাস্থ্য কিস্তু একবার কলকাতায় ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স শুনে ফিরে আসার ঠিক পরদ্দিনই সে অবিকল উৎপলের স্ত্রী ছবির মতন রক্ত বমি করলো

ছর্গাপুরে বড্ড কনকনে শীত পড়ে গোটা শীতকালটা সাবধানে

১৪

না! থাকলে অনেকেরই ব্রঙ্কাইটিস হয়ে যায়। ব্রস্কাইটিসের চিকিৎসার নন্য নাসিংহোমে যাওয়া তে দূরের কথা, হাসপাতালেও যাওয়ার দরকার হয় না, ভাক্তার বাড়িতে এসে ইঞ্জেকশান দিয়ে যেতে পারে। কিস্তু উৎপলের স্ত্রী ছবি যদি যেতে পারে, তা হলে, আমার স্ত্রী পারমিত। কেন কলকাতায় চিকিৎসা করতে যাবে না? অযাচিতভাবে পারমিতাকে দেখতে এসে কয়েকজন প্রিজ্েস করলে, কোন নাসিং- হোমে ভত্তি হচ্ছে৷? একবার থরে! চেকআপ করিয়ে নেওয়া ভালো

টাটা-বিড়লারা এখন নাপিংহোমের ব্যবসাও করে। সেখানে কোনো সরকারি অফিসারের স্ত্রীর কি চিকিৎসা করানোর সাপ্য থাকতে পারে ? তবু অনেকেই যায়।

সেবারই আমি এখানে স্বীর নামে একটা এজেন্সি খুললাম এটাই আইনসম্মত প্রথা মামাদের পাচ লাখ টাকার স্পেয়ার পার্টস কিনতে হবে, যে-কোম্পানি সেগুলো সাপ্লাই করার জন্য মনোনীত হলো, আমার স্ত্রী তার একজন শ্লিপিং পাটনার | ছূর্গাপুর ক্লাবে মিঃ বাজোরিয়। আমাকে সাড়ে সাত হাজার টাকার নোটসমেত একটা খাম দিল গোপনে পারমিতার চিকিৎসার খরচ

খামট হাতে নেবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হ'ল একটু দূরে দরঞ্জার কাছে একজন মহিলা এসে দীড়িয়েছে। টাপাকুল রঙের শাড়ি পরা আধখোল। খোপা, সরল, গভীর ছুটি চোখ সুভাতা !

আমার সঙ্গে চোখাচোখি হাতই সুক্ভাতা নীরবে বললো, ছিঃ অনীশ, তোমার কাছ থেকে রকম আশা করিনি !

বলাই বাহুল্য, সেই মহিলা সুজাতা নয়। অন্ত একজন, অনেকট। সুজ্ঞাতার মতনই শরীরের গড়ন, তবে সুজাতার মত এর সৌন্দর্যের দ্্যোতি নেই

আমিও মনে মনে বললুম, সুজাতা, তুমি কেন আমায় ছেড়ে চলে গেলে? যদি তুমি অকারণে আমায় আঘাত না দিতে, তা হলে আমিও রকম বদলে যেতুম না !

৯৫

পারমিতার বাপের বাড়ি টালিগঞ্জ বাচ্চারা সমেত পারমিতাকে সেখানে নামিয়ে দিয়ে ট্যাক্সি করে আমি ফিরছি, আমাকে হাওড়ায় গিয়ে ট্রেন ধরতে হবে, হঠাৎ কী খেয়াল হলো ট্যাক্সিটা ঘোরাতে বললুম এলগিন রোডে কিছুদূরে গিয়ে তাকে দাম মিটিয়ে ছেড়ে দিলুম নুজাতাদের বাঙডিট। আরও জরাজীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এখনো বিক্র হয়নি, আশে পাশে অনেক নতুন ঝকঝকে বাড়ি উঠেছে, তবু সেই বাড়িটা পুরানো আভিজাত্যের গব নিয়ে দাড়িয়ে আছে বাড়ির সামনে সুজাতার দাদ! এক পাঞ্জাবা ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলছেন অবিকল সেই আগেকার মতন তুরু তোল। ভঙ্গি

রাস্তার উপ্টোদিকে দাড়িয়ে আমি বাড়িটার দিকে চেয়ে রইলুম। সুজাত এখানে নেই, সে বিলেতেই রয়ে গেছে

তা হলে এই বাড়িট! হঠাৎ দেখতে আসার কী মানে হয়? বাড়িটার সঙ্গে মিশে আছে আমার প্রথম যৌবনের তীব্র ব্যর্থতা !

এই বাড়ির তিনতলার সেই খরটায় এখন কি অন্য কেউ থাকে !

ঘরে স্ুজাতাকে আমি প্রথধ চুগ্ধন করতে গিয়েছিলাম, সুজাতা আমার ঠোটে হাত চাপা দিয়ে বলেছিল, এখনো সময় হয়ু নি! সারাজীবনেও আর সে সময় আসবে না!

ওস্তাদ মন্জিদ খা একটা অনুষ্ঠান করতে এসেছিলেন দুর্গাপুরে ওর এখন দারুণ নাম। এক সন্ধ্যেবেল গান গাইবার ন্বন্ত কুড়ি হাজার টাক। নেন-_গায়কদের এত রোজগার ! আমি ক্লাসিক্যাল গান-বাজন। তেমন বুঝি না। তবু স্বীকার করতেই হবে যে মানুষটির কঠস্বরে জাত আছে।

ওস্তাদজীর বয়েস বছর পঞ্চাশেক হবে, সুন্দর স্বাস্থ্য, চোখ ছুটি

১৬

গাম তিনটি দিন তিনি আমাদের বাভিতে থেকে গেলেন, তা। য়ে পারমিতার কী গর্ব। আমাদের সোস্তাল স্টেটাস অনেক ছুঁতে উঠে গেল অন্যদের আরও অনেক বেশি টাকা থাকতে পারে, চন্ত অত বড় একজন ভারত বিখ্যাত গায়ক তে। আমাদের বাড়িতেই পঠেছেন।

সেই তিনটি দিন পারমিতা কী মাতামাতিই না করলে ! বেচান্ি পুন বাজনা এত ভালোবাসে, সে তার স্বপ্নের গায়ককে এত ঠছাকাছি পেয়েছে! সব রকম যত্ব আত্যি, এক সঙ্গে গলা সাধা, [ভ্তাদজ্ীর রেওয়াজের টেপ করাঃ এই সব নিজে মেতে রইলো টীরমিত। ছেলে-মেয়েদের দিকে নর দেবারও সময় নেই

আমাকে অবশ্য তিনদিনই অফিস করতে হয়েছে, তা ছাড়া শুরু- ্রাত্যার অস্তরঙ্গতার মধ্যে আমি মাথ! গঙ্গাতে চাইনি পারমিতার ফ্রানন্দ উদ্ভাসিত মুখখানা দেখে আমার খুব ভালে! লাগছিল ্লীরমিতাকে বোধহয় আমিও কখনও এতটা আনন্দ দিতে পারিনি ফ্রকর কাছে আত্মনিবেদন করতে গিয়ে পারমিতা কি তার সব কিছু রর য়েছিল ? অসম্ভব নয় মোটেই ওস্তাদজীর সেই মায়াময় চোখে ্রাঝে মাঝে নারী-লোলুপতার ঝিলিক আমি লক্ষ করেছি ওত্তাদ্জীর তনটি স্ত্রী এবং সারা ভারতে তার অনেক প্রেমিকা, কাগজেই এসব প্রবব বেবিয়েছিল এক সময় গুণী শিল্পীদের জীবন তো! রকমই কয়।

ওক্তাদজী যদি কখনে। পারমিতার কাছ থেকে সব কিছু দাবি £রে থাকেন, তাতে পারমিতা আপন্তিও জ্রানাতে পারবে না" সে গমনই ঘোরের মধ্যে ছিল ওস্তাজীর বিদায় নেবার সময় পারমিতার চাখ ছলছল করছিল, ওস্তাদজ্ী তাকে ক্রড়িয়ে ধরে আদর করেছিলেন

এতে দোষেরই বা কী আছে! পারমিতার আর বাচ্চাকাচ্চ। হবে না, সে যদি একবার তার স্বপ্রের পুরুষের সঙ্গে শোয়, ভাতে তার শরীরটা তো। আর ক্ষয়ে যাচ্ছে না৷ ! এটাকে ঠিক ভালোবাসাও বলে

১৭

অঃ নগরী--২

না। এক ধরনের মোহ, এর জন্য পারমিতার সঙ্গে আমার সম্পন্ন * চিড় খাওয়ার কোনো কারণ নেই ! আমি নিজের চোখে ওদের সেই ধরনের ঘনিষ্ঠতা রং সন্দেহপ্রবণ মানুষও নই তবু ঠাট্টার ছলেও এঁ কথাটা পা জিজ্দেস করতে পারি না। সন্তাহখানেক বাদে এক রাত্রে পারমিতা নিজে থেকেই আমা? ' আদর করতে এলো, আমার বুকে মাথা রাখলে! সেই রাতে আমি বেশ খানিকটা ভুইস্কি পান করেছি ওস্তাদন্ভীর জন্য 'আমার ছুটি বোতল স্কচ খরচ হয়ে গিয়েছিল, বাড়িস্তে আর স্টক ছিল না, সুতরাং বাধ্য হয়ে খেতে হয়েছিল ইত্ডিয়ান £ শরীর বেশ উত্তপ্ত পারমিতাকে জড়িয়ে ধরতেই অন্ধকারের মধ ফট করে ভেসে উঠলো সুজাতার মুখ পারমিতাকে চুম্বন করে তেমন স্বাদ পেলুম না। মনে হলো্ু ক্রীবনে একট। পরম চুম্বন পাওয়াই লাকি রয়ে গেছে। সুজাতা লণ্ডন থেকে ফিরে এসেছে বছর তিনেক আগে টা করছে বন্বেতে। বিয়ে করোন। এসব খবর অনন্তর মুখে শুনতে পাই। অফিসের কাক্ষে আমাকেও বছরে অন্তত পাঁচ-ছ'বার বন্ধে যর হয়। শ্রজাতার খোজ করার কথা মনেও আসেনি কিন্তু এটা! আমার কী হলো।? পরপর তিন-চারবারই পারমিতার শরীরটা! আমার কাছে নিরামিষ মনে হচ্ছে! স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে প্রথম দ্রিককার সেই উন্মাদনা! খানিকট। মিইয়ে যায় ঠিকই কিন্তু পারমিতার সঙ্গে শুয়ে বারবার সুজাতার কথা মনে আস, কেন? নুজাতার শরীর আমি কখনো পরিপূর্ণভাবে দেখিনি, কি”: আজকাল প্রায়ই আমি তাকে মনে মনে নগ্ন করি !

১৬

একটা এক্সপেরিমেন্ট করা দরকার

এলাহাবাদে তিন দিনের একটা কনফারেন্স ছিল। টুক করে করে সেখানে থেকে এক দিন পালিয়ে চলে এলুম কাশীতে

ছাত্রজীবনে কাশীতে এসে একেবার এক মধাবয়স্ক দাদার পাল্লায় পড়ে একটা বাঈজীর বাড়িতে যেতে হয়েছিল। বেশ ভয় ভয় করেছিল সেবার, মনের মধ্যে খানিকটা পাপবোধও ছিল একটি মেয়েকে ভালোবেসে অন্ত কোনো,নারাঁর সঙ্গে ঘনিষ্টত1 করাটা অন্ঠায় মনে হতো এখন ওসব বিবেকের দায় চুকে গেছে পকেটে পয়সার জোর থাকলে এইসব পাড়ায় আসতে ভয়ও করে না।

ডালপট্িতে একজন দাল৷লকে ধরে এলুম সুমা বাঈজীর ঘরে। ছদ্ম নামটা এই মেয়েটিকে বেশ মানিয়েছে হয়তে। বছর পঁয়তিরিশেকের মতন বয়েস, দেখায় পঁচিশ বছরের মতন, চোখ ছুটি বেশ দীঘল কালো মাথায় অনেক চুল, ঠোটে লাস্য আছে।

প্রথমেই পাঁচ শো টাক। দিয়ে বললুম ড্রিংকস আনতে বুঝিয়ে দেওয়া! হলে। যে টাক। পয়সার ব্যাপারে আমি কোনো কাপণ্য করবে৷ না, তার বদলে আমি যা-চাই, তাই-ই আমাকে দিতে হবে। আুজাত। নাচ জানতো না, তেমন কিছু গানের গলাও ছিল না। এই বাঈজীর সঙ্গে সুজাতার চেহারারও কোনে মিল নেই

তবু সুজাতার মুখখানা যেন বাতাসে ভালছে। ভার চোখে তীব্র ল্রৎসন।। আমাকে এই ভামকায় সে একটুও পছন্দ করছে না। সে মামাকে পছন্দ-অপছন্দ করার কে? আমি সিগারেটের ধোয়ায় সেই সুখখান। উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করছি।

আজকাল প্রায়ই এমন হয়। চুপচাপ একল! বসে থাকলেই স্থজাতা আমার কাছে চলে আসে সঙ্গে সঙ্গে আমার শরীরে একটা রোমাঞ্চ হয় আমার ঠোটের ওপর থেকে:যেন হাত সরিয়ে নিয়েছে

সুজাতা, আমি তার ছায়ামূতিকে চুম্বন করছি, সে রকম চুম্বনের স্বাদ পৃথিবীর আর কোনে নারীর কাছ থেকে পাওয়া যাবে না !

স্র্মা বাঈ পরপর ছুটে! গান শেষ করলো আমার মন লাগছে না। ঝৌকের মাথায় নেশা করে ফেললুম অনেকটা নেশা না করলে কি এক ঘণ্টার পারচয়ে কোনে। নারীকে স্পর্শ করা যায় ?,

তাতেও কিছু লাভ হলো না।

স্থমা বাঈকে জড়িয়ে ধরে আমি সর্ক্ষণ আসলে স্থজতাকেই আদর করতে লাগলুম |

১০

সপ্টলেকের বাড়ির আজ ছাদ ঢালাই হচ্ছে আমি একটা রডীন ছাতা মাথায় দিয়ে ফাঁড়িয়ে আছি কৃষ্ণচূড়া গাছটার তলায় হঠাৎ এক সময় আমার মনে হলোঃ আমি কেন এখানে দাড়িয়ে আছি ? কী হবে এই বাড়ি তৈরি করে? আমার বুকটা অসম্ভব কষ্টে মুচড়ে মুচড়ে উঠছে আমি নুজাতাকে পাইনি, এই জীবনে যেন আর কোনো কিছু পাওয়ারই মূল্য নেই !

প্রথম তিন-চার বছর এমন হয়নি, সুর্জাতাকে অনেকট। দূরে সারয়ে রাখতে পেরেছিল্গুম কিন্ত এখন প্রায় প্রতিদিনই সুজাতা আমার কাছে ফিরে আসে সে আমাকে চরমভাবে হারিয়ে দিয়ে যেন আনন্দ পায়

পাশেই আর একট বেশ বাড়ি তৈরি হচ্ছে। ইচ্ছে করলে আমিও এরকম বাড়ি তৈরি করতে পারতুম স্ুজাতাদের এলগিন রোডের কাড়িটাও কিনে নেওয়া আমার পক্ষে অসাধ্য নয়। টাকা আমি কম রোজগার করিনি এবং তার অনেকখানিই আইনমাফিক টাক।। পারমিতার নামে সত্যি সত্যি আলাদা একটা ব্যবসা চালিয়ে ভালো প্রফিট হচ্ছে। অফিসেও আমার স্থনাম আছে অনেকে বলে অনীশ রায় কাজ পাগল মান্গুষ হ্যা, অফিসের কাজে আমার

কোনো খুত নেই। সর্বক্ষণ আমি কাজে ডুবে থাকতে চাই ! আমার ছেলে মেয়ে ছুটি ভালো! স্কুলে পড়ছে, ব্যবহারও চমৎকার পারমিতার সঙ্গে আমার সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরেনি ওস্তাদ মজিদ খা আর দুর্গাপুরে আসেননি, পারমিতার কাছে সেই তিনটি দিন শুধু এখন মধুর স্মৃতি। আর কোনে! একট! কনফারেন্সে ওস্তাদজী পারমিতাঁকে দেখে স্টেজ থেকে হাত নেড়েছিলেন, ব্যস পর্যন্ত অত্যন্ত ভিড়ের চাপে পরে পারমিতা আর তার কাছে যেতে পারেনি, বিশেষ চেষ্টাও করেনি! ছুর্গাপুরের দু-একটা ফাঁংশনে অন্যান্থ অফিসারদের স্ত্রীর সঙ্গে প'রমিতাও গান করে সে বেশ আনন্দেই আছে

পারমিতাকে আমি ভালোবাসি পারমিতা আমাকে ম্ুন্দর সাহচর্য দেয় তার শরীরেও বেশ উত্তাপ আছে

আমি শুজাতার খোজ করি না। এর মধো একবারও ভার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করি নি। সে বন্বেতে থাকে, তার ঠিকান। জ্বোগাড করা “কিছুই শক্ত নয়। কিন্তু একবার আমি তাকে বিদায় জানিয়েছি কেন আবার তার পায়ে লুটোতে যাবো !

আমি স্ুজ্জাতাকে বিদায় জানিয়েছি, তবু সে কেন ফিরে ফিরে আসে ? বিশেষ বিশেষ মুহুর্তে? মৃত্যুশোক থেকে একটা প্রেতিনীর মতন ?

আমাদের সমস্তাহীন সংসার টাক। পয়সার অভাব নেই সব দিক থেকেই তো আমরা সখী! তবু হারামজাদীটা আমার বুক ভেঙে দিয়েছে! কোনো কিছুতেই আম'র তৃপ্তি নেই !

শুধু সে সুমা বাঈ নয় তার পরেও আরও ছুটি মনির সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠত। হয়েছিল

অ্রকাল প্রত্যেক পার্টিতেই একজন দু'জন তরুনী থাকে, তাঁর' কী রকম যেন ছলছলে চোখে তাকায় একটু প্রশ্রয় দিলেই তাদের সঙ্গে আলাদা দেখ! কর! যায় আগে আমার এসব জান। ছিল না।

কিন্তু সে ছই তরুণীও সুজ্ঞাতার বিকল্প হতে পারেনি প্রতোক- বার আমি হেরে গেছি সুজাতা এসে পাশে ফাডিয়েছে।

২১

বাথরুমে সান করার সময় এক-একদিন আমি অনেকক্ষণ চুপ করে দাড়িয়ে থাকি নিজেরই বাহুতে একট! চুম্বন দিয়ে ভাবি যেন ্ুজজাতাকেই আদর করছি। সঙ্গে সঙ্গে আমীর শরীর উষ্ণ হয়ে যায়। শুধু কল্পনাতেই আমি সুজাতাকে জড়িয়ে ধরে যত রোমাঞ্চ বোধ করি, কোনে! বাস্তব নারী আমাকে তা দিতে পারে না !

হারামজাদী ! পে শুধু আমাকে তার ভালোবাসা থেকে বাঞ্চিত করেনি, আমার জীবনের সব রকম সার্থকতা, আমার বাকি জীবনের নারীসঙ্গ স্থখও সে কেড়ে নিয়েছে !

সুজাতা আমার সঙ্গে পুরী যেতে চেয়েছিল আমাকে সেদিন টাকার চিন্তায় চুপ করে থাকতে হয়েছিল কিছুক্ষণ তারপর জীবনে কত টাকা রোজগার করেছি কী লাভদ্হলো ? এক এক সময় সব ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হয়।

১১

কলকাতায় এলে অনন্যার সঙ্গে দেখ হয় মাঝে মাঝে: অনন্য প্রায়ই বম্বে যায়, সুজাতার সঙ্গে ভার যোগাযোগ আছে অনন্য এমন ভাব দেখায় যেন স্থুরজাতার সঙ্তে তার প্রেম; আন্ধেরি ওয়েস্ট অুজাতার ফ্লাট. সেখানে সে একলা থাকে, একবার হোটেলে জায়গ। না! পেয়ে অনগ্ স্রজাতার কাছে ছিল এক রাত।

সেই বুষ্টির দিনে স্ৃজ্জাতা আমার হাত ছাড়িয়ে চলে যাবার পর জল-জুম। কলেজ ট্টিটে একটা সাদ! রঙের গাড়ি স্ুজাতাকে তুলে নিয়েছিল গাড়ির রংটাও আমি ভূলি নি।

সেটা ছিল অনন্তর বাবার গাঁড়ি, অনন্তও মাঝে মাঝে চালাতে। তবু অনন্থর সঙ্গে স্বজাতা কথ! বলতো! উপহাসের ভঙ্গিতে অনম্যর চেহারাটাও বেশ সুন্দরই বলা যায় রং ফর্সা, সিনেমায় নামলে ন্যাকা প্রেমিকের রোলে মানিয়ে যেত

অনন্যদ্দের সেই গাঁড়িটা বিক্তি হয়ে গেছে অনন্য বিলেত যায়

নি। আমার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সুজাত! অনন্তর সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতা করে নি, সেটুকু আমি জানি এখন নতুন করে বন্ধুত্ব হয়েছে ওদের?

অনন্যর কথা ঠিক বিশ্বাস হতে চায় না। জীবনে সেরকম কিছু করতে পারেনি অনন্ত | আমাকে হিংসে করে. তা বুঝতে পারি। শ্বজাতার কথা তুলে আমাকে খোঁচা মারতে চায়

কলকাতায় একট] বেশ বড় টেগারের স্পেশিমেন ইনস্পেকশানের জন্য দু-তিন দিন থাকতে হলো! শ্বশুরবাড়িতে না উঠে গভর্নমেণ্টের টাকায় গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলে রইলাম সেখানে অঙ্জুন চৌধুরী নামে একজন লোক কার্ড পাঠিয়ে ছ-তিনবার দেখা করতে চেয়েছে, আমি পাত্তা দিইনি পার্টির কোনে। লোকের সঙ্গে এই সময় দেখা করা নিয়ম নয়।

দুর্গাপুরে ফেরার পর সেই অঙঞ্জুন চৌধুরী একদিন অফিসে এসে হাজির হলো বেশ দীর্ঘকায়, সুপুরুষ, মুখে ফ্রেপ্টকাট দাড়ি। নাম দেখে বুঝতে পারিনি, দেখেই চিনেছি। সুজাতার ছোড়দা, একে আমরা বলতুম মন্তাদা, বেশ ভালো! ক্রিকেট খেলতেন সেই তরু ভুলে কথা বলার ভঙ্গি। একট চেয়ারের দিকে ইঙ্গিত করে আমি সললুম, বন্ুন মিঃ চৌধুরী, হোয়াট ক্যান আই ডু ফর ইউ?

মুখে একটা জ্বলন্ত পাইপ আর কোনে। কোম্পানির লোক আমার ঘরে পাইপ মুখে দিয়ে কথা বলার সাহস পায় না। অন্তাদের মুখে একট তেলতেলে হাসি লেগে থাকে, মন্তাদ। এমন ভারে আমার দিকে তাকালেন যেন তিনি আমাকেই দয়া করতে 'এসেছেন।

আমার কাছে উনি কিছু সুযোগ স্ববিধে চাইতে এসেছেন ঠিকই, কিন্তু প্রথমেই সে কথা তুললেন ন! | পুরনো বনেদীয়ানা, ভাঙবে তবু মচকাবে না! মিনিট দশেক ধরে আমার সঙ্গে কাজের কথ! বলে গেলেন

আমার পুরোপুরি সরকারি ব্যবহার দেখে মন্তাদা এক সময় বললেন, এক্সকিউজ মী; একট? ব্যক্তিগত প্রশ্ন করছি, আপনি অনীশ রায়, মানে, তুমি কি মুজাতার বন্ধু সেই অনীশ £

মু

হ্যা কিংবা না! কিছুই না বলে আমি শুধু একটু হাসলুম

মস্তাদা বললেন, তোমাকে আমাদের বাড়িতে কয়েকবার দেখেছি একবার আমাকে ক্যারাম খেলে হারিয়ে দিয়েছিলে! মনে আছে। আমি নুজ্বাতার ছোডদ!

অর্থাৎ মন্তাদার ভাবখানা এমন, আমি ম্ৃজাতার ছোড়দা, এবার তুমি বুঝে নাও আমাকে কতখানি সাহায্য করবে! সব দায়িত্ব তোমার

আমি তবুও কোন মন্তব্য করলুম না।

মন্তাদা আবার নললেন, স্বজাতা এখন বন্বেতে আছে জানে। তে1? শিগগিরই একবার কলকাতায় আসবে তো আবার বিয়ে করলো |

আমার ভুরু ছুটে! সামান্তা কুচকে গেল আবার মানে ? অনন্য' বলেছিল নুক্রাত! বিয়েই করেনি অনন্যটা এক নম্বরের মিথোবাদী !

মণ্ডাদা চলে যাবার পরই আমি উৎপল ব্যানাঞ্জিকে ডেকে

পাঠালুম। মাঝখানে উৎপলের নামে একটি পার্টি মামলা করেছিল বলে ওর প্রমোশোন আটকে গেছে এখন উৎপল আমার সাবডিনেট, স্থতরাং আমাকে দু-চক্ষে দেখতে পারে না অথচ হাসি মুখে কথা বলে। |

যে-ফাইলটায় মন্তাদার স্বার্থ আছে, সেট] উৎপল ব্যানাজির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললুম, এই কেসট] পুরোপুরি আপনিই ডিল করবেন। আপনার সিদ্ধান্তই ফাইনাল। আমার মতামত নেবারও কোনো দরকার নেই

ফাইলট৷ নিয়ে উৎপল ব্যানাক্তি দরঞ্জার কাছে যেতেই আমি আবার মত বদলে ফেলে বললুম, আচ্ছা দাড়ান, ফাইলট। বরং মাস পেণ্ডিং রাখুন। আইটেমটা তেমন জরুরি নয়। পার্টিরা খোঁজ নিতে এলে বলবেন, আমরা একসঙ্গে আরও বেশি মানের অর্ডার দেবো, অস্তুত লাখ পঞ্চাশেক হবেই, তবে এখন না, মাস বাদে। টেগারের ওপিনিং-এর তারিখ পিছিয়ে দিন

২৪

অস্তাদাকে হতাশ কিংবা খুশি কোনোটাই করতে চাই না। তার চেয়ে ঝুলিয়ে রাখা অনেক ভালো দেখ যাক, তাতে তার তৃরু নীচু হয় কি না!

আমার অনুমান মিথ্যে নয়। এক মাস বাদেই মন্তাদা আমার বাড়িতে একটা মস্ত বড় কেক আর ঢু বোতল স্কচ পাঠিয়ে দিল। আমি কোন ব্র্যাণ্ডটা পছন্দ করি, তা পর্যন্ত গোপনে খবর নিয়েছে ! এই তো নামতে আরস্ত করেছে একটু একটু করে। সুজাতার সঙ্গে যত দিন আমার ভাব ছিল, সেই সময় আমি এক ফৌটাও মগ্তপান করতুম না। পারমিত। ছেলে মেয়েদের নিয়ে একটা জন্মদিনের নেমন্তন্ন খেতে গেছে একানে জন্মদিন লেগেই থাকে বাড়ি ফাঁকা অনেকক্ষণ ধরে স্বজাতা আমার ঘরে এসে বসে আছে আমিন্তার শরীরের পরাফিউমের গন্ধও পাচ্ছি

সুজাতার মুখে, বুকে চুমু খেতে কোনো! বাধা নেই সমস্ত শরীরে আমার শিহরন হচ্ছে ঠিক যেন আমার সেই বাইশ বছর বয়েসে ফিরে গেছি!

১২

সুজাতার সঙ্গে শেষ প্যস্ত সত্যিই দেখা হলো। ঠিক বারো বছর পর

কলকাত। শহরে ঘোরাঘুরি করলে চেনাশুনেো৷ কারুর সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়াট? আশ্চর্য কিছু না।

অফিসের কাজেই তিনটে মিটিং সেরে বিকেলের দিকে বেশ ক্লাজ হয়ে এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে গিয়ে বসলুম পার্ক ট্রিটের এক রেস্তোরায়। খানিকক্ষণ সময় কাটাবার জন্থা। কিন্তু হঠাং বৃষ্টি নেমে গেল। রীতিমতন আকাশ ভাঙা বৃষ্টি রাস্তায় এখনও জল জমেনি অবশ্ঠ, কিন্ত এত বৃষ্টিতে বেরুনো যায় না। দ্বিতীয় বার বীয়ার নিতে হলো! !

সেই সময় ঢুকলো! নুজ্জাতা। সঙ্গে আরও হু'জন পুরুষ কিছু একটা কথ। বলতে বলতে ওর! ভেতরের দিকে চলে যাচ্ছিল আমি ঠিক দরজার সামনের টেবিলেই বসেছি বলে সুজাতার সঙ্গী একজন পুরুষের সঙ্গে আমার চোখোচোখি হয়ে গেল। নাম মনে নেই, তবে লোকটিকে আমি ছু-বার দেখেছি কোথাও সামান্য মুখ চেনা কিছু একটা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

সেই লোকট হঠাৎ প্রবল উৎসাহের সঙ্গে বললো, এই যে অনীশবাবু, আপনি কলকাতায় ? কবে দুর্গাপুর ফিরছেন? আমি আগামী সন্তাহে একবার যাবো ভাবছিলাম আপনার সঙ্গে দেখ করতে

আমি বললুম, হ্যা, আসবেন তার মধ্যে ফিরে যাবো

স্জাতাকেও দাড়াতে হয়েছে সে আমাকে এডাবার কোনো চেষ্টা না করে মূখে অনেকখানি হাসি ফুটিয়ে বললো, অনীশ ! কত, দিন পরে দেখা কেমন আছে! ?

আমিও হেসে বললুমঃ ভালো ! তোমার খবর কী, সুজাতা ?

সুজাতা বললো, আমার খবর ভালোই ছোড়দার মুখে শুনছিলুম, তুমি হুর্গাপুরেই থাকে৷

এরপর আরও ছু-চাঁরটি সামান্য টুকিটাকি কথাবার্তা তারপর, সুজাতা তাঁর সঙ্গীরা চলে গেল একট ভেতরের টেবিলে

মানুষ কত মিথ্যে কথাই বলে! স্থুজাতার জন্য আমি সবক্ষণ জ্বলছি, আজ সকালেও অনেকক্ষণ চিন্ত। করেছি তার কথা, অথচ তাকে স্বচক্ষে দেখবার পর মামুলিভাবে বললুম, ভালে। ! এক বৃষ্টির দিনে স্ুঙ্জাতা আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল, আর এক বৃষ্টির দিনে তার সঙ্গে আবার দেখা আমি আর অপেক্ষা না করে সেই বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে পড়লুম।

সুজাত। অন্য এক টেবিলে অন্য লোকদের সঙ্গে বসে আছেঃ এট আমার সহা হচ্ছে না। আমি সামান্ ইচ্ছে প্রকাশ করলেই সেই টেবিলের লোকেরা আমাকে খাতির করে ডেকে নিয়ে যেত। কিন্তু

২৬

সুজাতার সঙ্গে কথা বলার কোনো আগ্রহও তো আমার নেই আমি যখন এক থাকি, তখনই স্ুজাতাকে খুব নিবিড় করে পাই। অন্য সময় আমি পারমিতার স্বামী আমি একজন ব্যস্ত মান্ধুষ অনেকের চোখে আমার বেশ গুরুত্ব আছে!

স্থজাতা কলকাতায় এলো কেন? এক শহরে আমার আর স্জাতার একসঙ্গে থাক! সম্ভব নয়। আজই দুর্গাপুরে ফিরে যেতে হবে

ম্বজাতা আমার কেউ ন1 !

১৩

অনন্যর সঙ্গে দেখা হতেই সে প্রায় বিন! ভূমিকায় দশ হাজার টাক ধার চাইলো

আমি চোখের একটাও পাত] ন1 কাপিরে ব্রিফ কেস খুলে ক্যাশ' পাচ হাজার টাকার নোট তুলে দিলুম ওর হাতে কেন সে চাইছে, দে সম্পর্কে আমার কোনো আগ্রহ নেই দশ হাজারই দিতে পারতুম, সঙ্গেই ছিল, কিন্তু এটুকু অপমান ন। করলে চলে না জানি, অনন্য টাক। কোনোদিন ফেরত দেবে না, আমিও আশা করি না। তা ছাড়া, যার! ধার চায়, তার! একটু বাড়িয়েই চায় আমাদের কলেজ জীবনে অনন্ত ওর বাবার গাড়ি হাকিয়ে বেড়াতো টাকা ওড়াতো ছু'হাতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে বলে আমার প্রতি ওর একটা অবজ্ঞার ভাব ছিল। অনন্যকে টাক! ধার দিয়ে আমার মেজাজটা বেশ প্রসন্নই হলো অনন্যর কাধ চাঁপড়ে বললুম, চল, গ্র্যাণ্ড হোটেলে আজ ডিনার খাই। অনেক দিন আড্ডা মারা হয়নি |

যারা একসময় আমাকে গরিব বলে জানতো? তাদের সামনে বড়লোকি দেখাতে ন' পারলে আর টাক। রোজগার করে লাভ কা?

অনন্ত যে স্রজাভার ব্যাপারে আমাকে মিথ্যে কথা বলেছিল. সে;

গর্ত আমি কিছু মনে করিনি। তো কোনো না কোনো দিক থেকে জিতবার চেষ্টা করবেই

খানিকটা মদ পেটে পড়তেই অনন্যর মুখ থেকে আসল গল্পটা বেরিয়ে এলে। লগুনে সুজাতা একজন ইংরেজকে বিয়ে করেছিল এক বছরের মধ্যে সেপারেশান হয়ে যায়। তারপর বন্বেতে স্বজাতাকে বিয়ে করবার জন্য তিনজন লোক খুব ক্ষেপে উঠেছিল তাদের মধ্যে একজন খুবই বিদগ্ধ মারাঠী। শেষ পর্যস্ত অবশ্য সুজীতা একজন বাঙ্তালীকেই বিয়ে করেছে ছু বছর আগে, কিন্তু সেই বিয়েটাও খুব সার্থক হয়নি অনন্যর পারণা, যদি আগেই একটা বাজে বিয়ে না করে ফেলতো, তা হলে নির্থাত সুজাতা ওরই ঘরণী হতো

বিবাহিত জীবনে স্ত্খ পায়নি স্বজাতা, তা জেনে আমার মনট খারাপ হয়ে গেল। ্ুজজাতার মতন মেয়ের একট? সুন্দর জীবন প্রাপ্য ছিল। আমার সঙ্গে যদি দৈবাৎ বিয়ে হতো সুজাতার, তা হলেও কি সেনুখী হতো? সুজাতা আমার স্ত্রী হলে ঘুষ নিতাম না, বড়লোক হতুম না, আমি একজন আদর্শবাদী, মধ্যবিত্ত. কিছুট। তিক্ত মানুষ হয়ে জীবনট। কাটিয়ে দিতুম। সে জীবন কি সুজাতারও কাম্য হতো ?

সুজাতার দ্বিতীয় স্বামী ওর ছোড়দ। মন্তাদার সঙ্গে পার্টনারশীপে বাবসা করে বড়লোক হবার চেষ্টা করছে আঃ ওদের আমারই কাছে আসতে হবে কেন ? এটা আমার মোটেই পছন্দ নয় ওদের কোনে ব্যাপারে আমি মাথা ঘামাতে চাই না, আমি প্রতিশৌধ নিতে চাহ না। আবার আমি ইচ্ছে করলেই একট? বড় অর্ডার পাইয়ে ওদের ব্যবসাটা দাড় করিয়ে দিতে পারি

স্থজাতা যেন তার স্বামী কিংবা ছোড়দার হয়ে আমার কাছে কোনোদিন অনুরোধ করতে না আসে! স্থবজাতার ততখানি অধঃপতন কিছুতেই আমি সময করতে পারবো না !

৭২৮